
মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন অবহেলিত, চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া নিউমুরিং ভোলা ফকিরের বাড়ির রাস্তা অবশেষে সংস্কারের আওতায় এসেছে। এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৩:৩০ মিনিটে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জনাব মোঃ শফিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাব শফিউল আলম বলেন, “রাজনীতির লক্ষ্য শুধু ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। দক্ষিণ হালিশহরের এই রাস্তা বহু বছর ধরে মেরামতের অভাবে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব ভুলে গেছেন। আমরা জনগণের অর্থে জনগণের কল্যাণেই কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, নির্বাচিত হলে এলাকার প্রতিটি সড়ক, ড্রেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সরকার উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা ব্যয় দেখালেও সাধারণ মানুষের জীবনে এর সুফল নেই। বরং দুর্নীতি ও লুটপাটে জনগণ আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত মাঠে নেমে সরাসরি জনসেবামূলক কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—৩৯ নং ওয়ার্ড জামায়াত মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ শাহেদ, ওয়ার্ড কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ ফখরুল ইসলাম, গাজী ওমর ফারুক, জি এম রাসেল, মোঃ আনিসুর রহমান এবং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শত শত এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল। শিশু-কিশোরদের স্কুলে যাওয়া, অসুস্থ রোগীর আনা-নেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল—সবই ছিল দুর্বিষহ। আজ জামায়াতের উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। প্রকৃত প্রতিনিধি তারাই, যারা মাঠে নেমে জনগণের কষ্ট লাঘব করে।”
৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড নগরীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবকাঠামোর উন্নয়ন থেমে ছিল। শহরের আধুনিকায়নের স্রোতে এই এলাকায় সাধারণ মানুষ এখনও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এই বাস্তবতায় জামায়াত নেতাদের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে—“যারা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করে ব্যর্থ হয়, তারা কথা রাখে না; কিন্তু যারা মাঠে নেমে কাজ করে, তারাই প্রকৃত জননেতা।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম-১১ আসনের ভোটাররা আগামী নির্বাচনে এই ধরণের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।