
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজের ভিআইপি কক্ষ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হারুন-অর-রশীদ (৭৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ক্লাবের ৩০৮ নম্বর কক্ষের বারান্দার কাচের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, রবিবার বিকেলে ঢাকা থেকে এসে তিনি কক্ষে ওঠেন। রাতে একটি বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে ফেরেন। সোমবার সকালে তার একটি মিটিং ছিল, কিন্তু ফোনে সাড়া না পেয়ে এবং দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না মেলায় প্রটোকল টিম ও স্বজনরা সন্দেহ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের পেছনের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় তার মরদেহ দেখতে পায়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, হারুন-অর-রশীদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এম হারুন-অর-রশীদ সেনাবাহিনীর ২৪তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। ১৯৭০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। শুরুতে ইঞ্জিনিয়ার কোরে যেতে চাইলেও কোম্পানি কমান্ডারের পরামর্শে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সেনা ক্যারিয়ারে কুমিল্লার ৪র্থ ইবিআর-এ তার প্রথম পোস্টিং হয়।
পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি জর্জিয়ায় বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীতে একাডেমিক মনোভাবের জন্য পরিচিত হারুন-অর-রশীদ আর্মি স্টাফ কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।
২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি দেশের দশম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি সার্ভেয়ার অপহরণের সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন। অবসরের পর সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি হন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে ডেসটিনির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং এ সংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করেন।
বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে সেনাবাহিনীর সাবেক সহযোদ্ধা, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।