
মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ ও নড়াইল—এই চার জেলার লক্ষাধিক মানুষের জন্য স্বপ্নের সেতু ছিল চাপাইল সেতু। মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু সাড়ে ৬১ কোটি টাকার ব্যয়ে ২০১৫ সালে শেষ হলেও আজও এটি যোগাযোগের উন্নতি না এনে হয়ে দাঁড়িয়েছে জনদুর্ভোগের প্রতীক। এক দশক পরও সেতুর আশপাশে ইজিবাইক সিন্ডিকেটের অস্বাভাবিক দৌরাত্ম্য, বেহাল সড়ক ও অব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইজিবাইক সিন্ডিকেটের অবৈধ ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি:
চাপাইল সেতুর দুই পাশ দখল করে নিয়েছে ইজিবাইক চালকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট যাত্রীদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এমনকি অনেকেই সরাসরি সেতু পারাপার করতে পারছেন না, এবং নারী ও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
বেহাল আলো ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতা:
সেতুর ওপর ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে রাতে সেতু ও আশপাশের এলাকা হয়ে ওঠে নিরাপত্তাহীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্তরা এখানে আড্ডা জমায় এবং চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
দুর্ঘটনা ও অবৈধ যান চলাচল:
পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সেতুর দুই পাশে যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং হয়ে থাকে, ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অবৈধ ট্রলি, করিমন, নসিমনও চলাচল করছে, যা পথচারীদের চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এলাকাবাসীর দাবি ও সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান:
এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, চাপাইল সেতু তাদের জন্য উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নিরাপত্তা, আলো ব্যবস্থা, পার্কিং জোন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডির দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যদি সেতু ও সংযোগ সড়কের উন্নয়ন না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।