
মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াগাতী (কালিয়া), নড়াইল
নিরাপদ চলাচল, পরিবহন বিশৃঙ্খলা রোধ ও বিদ্যুৎ সমস্যাসহ ৭ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানাধীন এলাকায় মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত চাপাইল সেতু ঘিরে সৃষ্ট অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। শুক্রবার (২০ জুন) বিকাল ৩টায় সেতুর পশ্চিমপাড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ইমাম, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটিকে ঘিরে একদিকে যেমন অবকাঠামোগত অবনতি, অন্যদিকে পরিবহন বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। দিনের পর দিন অব্যবস্থাপনার ফলে জনজীবনে তৈরি হয়েছে নানামুখী দুর্ভোগ। মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।
দাবিসমূহ: সেতু দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ যাত্রী চলাচল নিশ্চিত করা; টলি, নসিমন, করিমন, ভটভটি ও অন্যান্য অবৈধ ও প্রাণঘাতী যান চলাচল বন্ধ করা; সেতুর ল্যাম্পপোস্টের বাতি সচল রাখা; কালিয়া-চাপাইল সড়কের বেহাল অবস্থা দ্রুত সংস্কার করা; অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুশ্রম ও মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; সেতুর পূর্বপাড়ের ময়লার স্তূপ অপসারণ ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং এবং ভূতুড়ে বিল সমস্যার সমাধান।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম মানববন্ধনে বলেন, “যে সেতুকে ঘিরে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল এই অঞ্চলের মানুষ, আজ সেটিই দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে নেই কোনো নিরাপত্তা, নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, রাস্তার অবস্থা করুণ, চারদিকে নোংরা পরিবেশ ও অপরিকল্পিত যানবাহনের দৌরাত্ম্য—সব মিলিয়ে এটি এখন এক বিপজ্জনক করিডোর।”
স্থানীয় শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, “এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও কৃষক যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তায় যান চলাচলের নামে চলছে অবৈধ পরিবহন বাণিজ্য, শিশু চালকদের হাতে মানুষের জীবন বিপন্ন। প্রশাসনকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।”
নারী প্রতিনিধি মমতাজ বেগম বলেন, “বিকেলের পর কোনো নারী একা চলাফেরা করতে পারেন না। বাতি নেই, সড়ক ভাঙা, চারদিকে মাদকসেবীদের আনাগোনা—এটা সভ্য সমাজে চলতে পারে না।”
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা নড়াইল জেলা প্রশাসক, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এলজিইডি প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। এতে তারা উল্লিখিত সমস্যাগুলোর দ্রুত ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবিতে আসিনি। এসব মানুষের বেঁচে থাকার, নিরাপদ চলাচলের, বাঁচার অধিকার আদায়ের দাবি। প্রশাসন যদি নির্বিকার থাকে, তবে প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”