
শেখ ফসিয়ার রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
বাংলার লোকসংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র চারণকবি বিজয় সরকারের ১২২তম জন্মবার্ষিকী আজ (২০ ফেব্রুয়ারি)। তিনি ১৯০৩ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। বিজয় সরকার নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন, তবে মতান্তরে তিনি মেট্রিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
বাংলার মাটি ও মানুষের গানকে হৃদয়ে ধারণ করে বিজয় সরকার একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি প্রায় ১৮০০-এর বেশি গান রচনা করেছেন, যা আজও লোকসংগীতের ভাণ্ডারে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তার প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও অনন্য গায়কী ও সুরের জন্য তিনি ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘পাগল বিজয়’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, মানবপ্রেম ও দর্শন তার গানে গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। বাউল গানের পাশাপাশি তিনি কবিগানেও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি পরলোকগমন করেন এবং কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। তার দুই ছেলে কাজল ও বাদল অধিকারী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় বসবাস করছেন।
বিজয় সরকারের শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৩ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে ও পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি। কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, আলোচনা সভাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে।
বিজয় সরকারের গান ও দর্শন: আজও প্রাসঙ্গিক:
বিজয় সরকারের গান শুধু সুর বা সংগীত নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের কথা, জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। তার গানে উঠে এসেছে সমাজের অসঙ্গতি, মানবপ্রেম, ভক্তি ও দেহতত্ত্বের গভীর ভাবনা।
“পোষা পাখি উড়ে যাবে, কেমনে ধরি আমি” এই ধরনের গানের মধ্য দিয়ে তিনি জীবন ও মৃত্যুর গভীরতম উপলব্ধি তুলে ধরেছেন। তার লেখা অনেক গান এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় এবং লোকগানের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখছে।
আজকের প্রজন্মের কাছে বিজয় সরকারের গান ও তার দর্শন পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার গান ও দর্শন চিরন্তন, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের মননে প্রেরণা জোগাবে।