
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও মানহীন চাল। ‘মিনিকেট’, ‘নাজিরশাইল’, ‘রানী সালোট’, ‘বিআর ২৮’—নানান নামে বাজারে এই চাল পাওয়া গেলেও এসব চালের গুণগত মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাত রান্নার ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ঘ্রাণহীন ও স্বাদহীন ভাতে বিরক্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, মিনিকেট চাল যতটা চিকন দেখায়, ভাতে তার প্রতিফলন তেমন নেই। বরং রান্নার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিজে ভিজে অবস্থা হয়। অনেকেই মনে করছেন, এখনকার মিনিকেট চাল আসলে ইরি জাতের চাল, যা কৃত্রিমভাবে পালিশ করে চিকন করা হয়েছে।
নাজিরশাইল চালের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে মানহীনতা। ক্রেতাদের মতে, আগে এই চালের ভাতে সাদা রঙ ও সুবাস থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে কালচে রঙ, নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং অস্বস্তিকর গন্ধ।
বাজারজুড়ে পাওয়া এসব চালের উৎপত্তি ও মান নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিনিকেট নামে দেশে কোনও ধানের জাত নেই। এটি মূলত একটি ব্র্যান্ড, যা বাজারজাতকারীদের ব্যবসায়িক কৌশলের ফসল। কম দামের ইরি বা বোরো ধানকে মেশিনে পলিশ করে মিনিকেট নামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পুষ্টিগুণ যেমন হারাচ্ছে, তেমনি ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
সরকারি একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ‘মিনিকেট’ আসলে বাজারের জন্য তৈরি করা কৃত্রিম রূপ। ফাইন, মিডিয়াম ও হেভি পালিশের মাধ্যমে চালকে চকমকে করা হলেও ভেতরে থাকে পুষ্টিহীনতা ও নিম্নমান।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাজারের এই চাল-প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।