1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

চিংড়ি খাতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: হরিণা চিংড়ি চাষে বছরে তিনবার ফলন, খুলনায় গবেষণা কর্মশালায় বিশ্লেষণ

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫
  • ২০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

চিংড়ি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিচিত প্রজাতি হরিণা চিংড়ি—এমন আশাব্যঞ্জক বার্তা উঠে এসেছে সম্প্রতি সমাপ্ত একটি গবেষণা প্রকল্পে।

এই গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করতে শনিবার ২৮ জুন ২০২৫ সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার গল্লামারী মৎস্য খামারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী কর্মশালা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ হাছানুজ্জামান বলেন, “চিংড়ি চাষীদের জন্য নব দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে হরিণা চিংড়ি। উপকূলীয় এলাকার ভাগ্য বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই চিংড়ির।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপুল কুমার বশাক, উপপরিচালক (মৎস্য), খুলনা। সভাপতিত্ব করেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগ। গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট, আর মূল গবেষণা পরিচালনা করেছেন প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ এনামুল কবির – উভয়ই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক।

মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড। প্রায় এক বছর গবেষণার পর হরিণা চিংড়ি এককভাবে চাষ করে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

হরিণা চিংড়ির একক চাষ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক, মাত্র ২-৩ মাসে একটি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব, বছরে তিনবার চাষ করা যায়, রোগে কম আক্রান্ত হয়, খরচ কম ও ফলন বেশি, বাগদার তুলনায় বেশি লাভজনক, চাষে টেকসই পরিবেশ বজায় রাখা যায়, উপকূলীয় ১৬ জেলায় বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে, হরিণা চিংড়ির জন্য বিশেষ ইনোভেটিভ খাদ্য উদ্ভাবন করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, হরিণা চিংড়ি (Metapenaeus spp.) সাধারণত নদী থেকে আহরণ করা হয় বা বাগদা চিংড়ির ঘেরে সাথী ফসল হিসেবে উৎপাদিত হয়। কিন্তু এখন এককভাবে এর বৈজ্ঞানিক চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

গবেষণা কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক, হরিণা চিংড়ি চাষে আগ্রহী চাষি, এবং স্থানীয় সুধীজন।

বক্তারা বলেন, হরিণা চিংড়ির কম খরচে দ্রুত ফলন এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও খাদ্য সহায়তা পেলে এটি উপকূলীয় অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে। গবেষক, প্রশাসন ও চাষিদের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে হরিণা চিংড়িকে একক চাষের আওতায় এনে চিংড়ি শিল্পে দ্বিতীয় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন কর্মশালায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park