
১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকায় মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উপলক্ষে নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কেএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ এবং নন পুলিশ সদস্যদের সন্তানেরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের সমারোহে পুলিশ লাইন্স যেন এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়। পৃথক তিনটি গ্রুপে; যথা- প্লে হতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ‘ক’ গ্রুপ, চতুর্থ হতে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ‘খ’ গ্রুপ এবং সপ্তম শ্রেণী হতে তদূর্ধ্ব পর্যন্ত ‘গ’ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ১৫৬ জন প্রতিযোগী চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণ করে।
কোমলমতি শিশু প্রতিযোগীদের নরম হাতের ছোঁয়ায় প্রকৃতি এবং স্মৃতিসৌধসহ নান্দনিক সব চিত্র অঙ্কিত হয়, এ যেন ছোট্ট হৃদয়ে বিশালতার পরিস্ফুটন, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ ও অভিভূত করে।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার সকল পুলিশ পরিবারকে অভিনন্দন এবং তাদের সন্তানদের একান্তভাবে উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের অভিমত জানতে চাইলে কোমলমতি প্রতিযোগীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য শিশুদের অভিভাবকরাও উৎফুল্ল এবং দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। অভিভাবকদের অনেকেই জানান যে, এই প্রথম কেএমপি পুলিশ লাইন্সে এধরনের একটি চমৎকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা তাদের সন্তানদের জীবনে চমৎকার স্মৃতি হয়ে থাকবে। তারা কেএমপি পরিবারকে একত্র করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান। একইসাথে এধরনের আরো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করার জন্য আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে গীতশ্রী কাঞ্জিলাল ১ম, সুকৃতি দাস ২য় এবং অনির্বাণ মণ্ডল ৩য় স্থান অধিকার করে।
‘খ’ গ্রুপে স্নেহা বাড়ই ১ম, সামিয়া চৌধুরী ২য় এবং আফিফা নওশীন ৩য় হন। ‘গ’ গ্রুপে উম্মে জান্নাত লিসা ১ম, প্রেরণা পাল ২য় এবং জয়িতা সাহা ৩য় স্থান অধিকার করে।
পুলিশ কমিশনার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।তিনি বলেন কেএমপি পুলিশ পরিবারের সন্তানদের সুপ্ত মেধা বিকাশের জন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। একটি সুস্থ জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আমাদের সন্তানরা যেন সৃজনশীল মানসিকতা নিয়ে বড় হতে পারে তার জন্য আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেন দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে, এজন্য তাদেরকে তৈরি করতে হবে। তাদের জন্য মেধাবৃত্তিক আরো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড ফিনান্স) আবু রায়হান মোঃ সালেহ সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।