
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
চাকরির পেছনে বছরের পর বছর ঘুরেও সফল হতে না পেরে হতাশা নয়, বরং কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সফল হয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের শিক্ষিত যুবক শ্রী নবদ্বীপ মল্লিক। বর্তমানে তিনি চুইঝাল ও অন্যান্য ফল-সবজি চাষ করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছেন।
নবদ্বীপ মল্লিক অনার্স-মাস্টার্স পাস করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানিতে যুক্ত হয়ে কিছুদিন ভালোই চলছিল, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আবারও বেকারত্বের মুখোমুখি হন। তখন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রায় ৫-৬ বছর আগে তিনি শুরু করেন চুইঝালের চাষ।
প্রথমদিকে কিছু সমস্যার মুখে পড়লেও এখন তিনি সফল একজন চাষি। প্রতি মাসে তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার চারা এবং অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার চুইঝাল বাজারে বিক্রি করেন। শুধু খুলনা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইন ও কুরিয়ারের মাধ্যমে তিনি পণ্য সরবরাহ করছেন।
বরাতিয়া গ্রামে নিজস্ব জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক নার্সারি — ‘এন.পি.এন. এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’। এখানে চুইঝালের পাশাপাশি তিনি ড্রাগন ফল, আম, জাম, পেপে, আমড়া ও নানা ধরনের ফুল-ফলের চারা উৎপাদন করেন। এছাড়া আলু, পটল, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চাষও করছেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছেন।
তার এগ্রো ফার্মে বর্তমানে নিয়মিতভাবে ২ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি মাসে কর্মীদের মজুরি বাবদ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। উদ্যোক্তা নবদ্বীপ বলেন, “আমি বছরের পর বছর চাকরির পেছনে ঘুরেছি, এখন বুঝি অন্যের চাকরি করার চেয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দেওয়াটাই বড় বিষয়। আমাদের যুবকদের চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়া উচিত। এই পথেই দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করা সম্ভব।”
চুইঝালের বাজারদর প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতি চারা ৪০-৫০ টাকা দরে এবং চুইঝাল প্রতি কেজি ১০০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “চুইঝাল একটি উপকারী মসলা জাতীয় লতা জাতীয় গাছ। এর কাণ্ড রান্নায় ব্যবহার করা হয় এবং এতে খাবারের স্বাদ বাড়ে, শরীরেও কোনো ক্ষতি করে না। মাছ-মাংস, ঝোল জাতীয় খাবারে এটি জনপ্রিয় উপাদান। চুইঝালের কাণ্ড, পাতা, শিকড়, এমনকি ফুল ও ফলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ।”
তিনি আরও বলেন, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল অঞ্চলে চুইঝাল চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই চাষ সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।