
জনগণ চায় শান্তি ও নিরাপত্তা, খুঁজছে আস্থার নতুন ঠিকানা
– মতামত কলাম
বাংলাদেশের জনগণ আজ এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে। একদিকে তারা দেখেছে দীর্ঘ ১৬ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে এর আড়ালে কিছু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বাস্তব চিত্রও তাদের চোখ এড়িয়ে যায়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং আমলাতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে জনসাধারণের মনে একটা নিরব ক্ষোভ জমে আছে বহুদিন ধরে।
বর্তমান সরকারের ৮ মাসের শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্ব, কর্মসূচিতে সংঘাত, আর ক্ষমতার রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। যারা একসময় রাজনীতিকে আশার আলো হিসেবে দেখেছিল, তারাই এখন সেই আলোর উৎসের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ, পারস্পরিক বিদ্বেষ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে জনগণের আস্থা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন—দেশে এখন এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশের জনগণকে শান্তি, সুবিচার ও নিরাপত্তা দিতে পারেন। একাংশের মত, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অন্তত পাঁচ বছরের জন্য নিরপেক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারেন।
এটি নিঃসন্দেহে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব। তবে একে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই, কারণ এটা জনগণের মনের ভাব। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের আত্মবিশ্লেষণ না করে, জনসাধারণের কষ্ট ও প্রত্যাশা না বোঝে—তবে বিকল্প চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।
যে জনগণ একদিন রাজনীতিকে পরিবর্তনের হাতিয়ার ভেবেছিল, আজ সেই জনগণই রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধায়। তারা এখন এমন কাউকে খুঁজছে, যিনি শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়—অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার গ্যারান্টি দিতে পারবেন।
সুতরাং, এখন সময়—সকল রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের উচিত জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া, তাদের কথা শোনা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। না হলে জনগণ নিজেই নতুন পথ খুঁজবে। আর সেই পথ কতটা ভিন্ন হবে, তা নির্ভর করছে বর্তমানের সিদ্ধান্ত ও আচরণের ওপর।
মামুন হাচান
কো-অর্ডিনেটর
সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচ সোসাইটি, অপরাধ পর্যবেক্ষণ ও মানবাধিকার সংস্থা।