
জরুরী ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন ২৫০ শয্যা হাসপাতাল খুলনা
রোগ: সিজার
রোগী- মহিলা 🛑 রক্তের গ্রুপঃ B+
রক্তের পরিমাণঃ ৩ ব্যাগ
রক্তদানের তারিখঃ আজই রক্তদানের সময়ঃ সকাল ৯/১০ টা
রক্তদানের স্থানঃ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ ।
☎️যোগাযোগ নাম্বারঃ স্বামী ০১৯১৩৮৯৬৬১৩
তবুও আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
দয়া করে একটু সময় নষ্ট করে আমার পোস্টটা পরিশেষ পর্যন্ত পড়বেন।
অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে দুচোখের জল ঝরছে অঝোরে। মা ও গর্ভের শিশুর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বেশ। ডাক্তার বললো আপনার স্ত্রীর শরীরে রক্ত থাকছেনা, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
আপনার স্ত্রী বাচ্চার কিছু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা, কি লেখা রয়েছে, সেটা পড়ে স্বাক্ষর করে দেন। কপাল যদি ভালো হয়, তাহলে উপরওয়ালা ভালো কিছু করবে। অপেক্ষার পাথপানে চেয়ে আছি। দীর্ঘদিন ৫০ মিনিট ধরে ডাক্তাররা সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক সেবিকা আপা নবজাতকের পিতাকে ডাকছে। দুর থেকে শুনতে পেলাম শিশু ছেলের কান্নার আওয়াজ। মিনিট তিনেক পর ফজরের আজানের সুমধুর সুর ভেসে আসছে। সেবিকা আপা বললো মা ও ছেলে কিছুটা ভালো আছে। ছেলেটাকে এক নজর দেখলাম অবুঝ শিশু চোখ বন্ধ করে চুপচাপ। আপাকে বললাম আমার ছেলে চোখ মেলেছে কি, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার কথার আওয়াজ পেয়ে শিশু ছেলেটা চোখ মেলে মিটিমিটি চেয়ে দেখলো আমায়। তখন সেবিকা বললো আমাদের বকশিস দেন। অনেক রক্ত পড়েছে ওটা পরিস্কার করেছি।
কথা শুনে পকেট থেকে খুশি হওয়ার মতো টাকা বের করে দিলাম। তারপর নবজাতককে শিশু ডাঃ দেখাতে বললেন। শিশু ওয়াডে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর অক্সিজেন, শরীরে স্যালাইন, ইনজেকশন কত কি ঔষধ প্রয়োগ। এদিকে মায়ের ওই রাতে রক্ত দিয়েছি দুই ব্যাগ, অপারেশন শেষে ডাঃ বললেন আরো ৩ ব্যাগ রক্ত লাগবে। রক্তের জন্য আহাজারি কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালে ব্লাড বাংকে রক্ত নেই। পরিশেষে কত মানুষের কাছে আকুতি মিনতি করছি এক ব্যাগ রক্তের জন্য।
দেখা যাক রব্বুল আলামীন হয়তো সঠিক ফয়সালা করবেন। মা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।