
হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ
“দেশে আজ ৫ কোটি যুব কর্মহীন ও আয়হীন। যুবসমাজ ন্যূনতম স্বাভাবিক জীবনযাপনের পর্যায়েও নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতা দখলের খেলায় বারবার যুবসমাজকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতা দখলের পর তাদের ছুড়ে ফেলা হচ্ছে”—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় যুব জোটের নেতারা।
তাঁরা বলেন, যুবসমাজ ধারাবাহিকভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তরুণদের আবেগকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখলকারী গোষ্ঠী গত দুই বছরে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। তাই কর্মক্ষম যুবকদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
জাতীয় যুব জোটের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৫টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদের সহযোগী যুব সংগঠন জাতীয় যুব জোটের কেন্দ্রীয় কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
সভায় যুব জোট নেতারা বলেন, উদ্যোগী, শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ হয়ে নতুন করে হাজার হাজার যুবক চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা। তাঁদের প্রশ্ন, একদিকে কর্মসংস্থানের সংকট ও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি, অন্যদিকে যুদ্ধবিমান ও বোয়িং বিমান কেনার মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তাঁরা অনুৎপাদনশীল ও অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বন্ধ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন বলেন, দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও আয় নিশ্চিত করা ছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন।
আলোচনা সভায় জাতীয় যুব জোটের কার্যকরী সভাপতি আমিনুল আজিম বনি, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বাচ্চু, পারভেজ আক্তার শিল্পী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুব জোটের সভাপতি আলাউদ্দিন খোকন, শ্রমিক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার খোরশেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আঞ্জুমান ইসলাম অংকুর বক্তব্য দেন।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাসদের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, শওকত রায়হান, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জাসদের সহসম্পাদক আলী হাসান তরুন, জাসদের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) সহসভাপতি এস এম গোলাম কিবরিয়াসহ অনেকে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির চিতায় দেশ জ্বলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় সাজানো বিচারের মাধ্যমে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ফরমায়েশি রায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
তাঁরা প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। একই সঙ্গে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল, তাঁর বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।