
রফিক মণ্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, দেশে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার উত্থান ঘটেছে, তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এসেছে। বর্তমান সরকারও সেই চেতনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে কাজ করছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার স্পষ্ট। তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং এই চেতনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন। রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সরকার বা আসামিপক্ষ—উভয়েই ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে আদালতের আশ্রয় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় অবস্থান তুলে ধরা উচিত।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, হাইকোর্ট পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি রায় দিয়েছেন, তবে সেটি চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টে আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
কোটচাঁদপুরের জনপ্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল আলম, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান, কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান, জাহিদুজ্জামান মনা, আবুবকর বিশ্বাস, লিয়াকত আলী, কেএমএইস কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুস সবুর খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
NGS/MMH