
হাকিকুল ইসলাম খোকন নিউইয়র্ক
ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া, যেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে শারীরিকভাবে আক্রমণ না করে ‘সংযম’ দেখিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া:
টেলিগ্রামে এক পোস্টে জাখারোভা বলেন, “জেলেনস্কির সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো, সে দাবি করেছে ২০২২ সালে কিয়েভ সরকার একা ছিল এবং তাদের পাশে কেউ ছিল না। ট্রাম্প ও (সিনেটর জেডি) ভ্যান্স যেভাবে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা থেকে বিরত ছিলেন, তা সংযমের এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত।”
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও কড়া মন্তব্য করে জেলেনস্কিকে ‘অহংকারী শূকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ওভাল অফিসে সে যথার্থ চড় খেয়েছে। ট্রাম্প প্রথমবারের মতো কিয়েভ সরকারকে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে খেলছে।”
রুশ বিশ্লেষকদের মন্তব্য:
রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ এই উত্তেজনাপূর্ণ বাকবিতণ্ডাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা সংস্থার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিমাকভ অভিযোগ করেন, “কিয়েভ শাসন সব সময় উসকানি দেয় এবং সহানুভূতি আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ঘটনা ঘটায়, এরপর রাশিয়াকে দোষারোপ করে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
যদিও ইউরোপের অনেক নেতা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘদিনের মিত্র হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “শক্তিশালী মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, দুর্বল মানুষ যুদ্ধ করে। ট্রাম্প সাহসের সঙ্গে শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অনেকের জন্য এটি হজম করা কঠিন।”
ওভাল অফিসের এই বৈঠকের জের ধরে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।