
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ, মাঠজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর দুই দলের লড়াই- সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানায় আয়োজিত চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে মোল্লাহাট ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাগুডাঙ্গা ফুটবল দল। শনিবার (১০ অক্টোবর) নড়াগাতীর সি এম বি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্ট ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ।
টুর্নামেন্টে অংশ নেয় চারটি দল—টুঙ্গিপাড়া, মোল্লাহাট, বাগুডাঙ্গা ও তেরোখাদা ফুটবল দল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দলগুলোর মধ্যে ছিল জয় পাওয়ার তীব্র চেষ্টা। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় টুঙ্গিপাড়া ও মোল্লাহাট। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের লড়াইয়ে সমতা থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের সেই লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মোল্লাহাট ফুটবল দল।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাগুডাঙ্গা ফুটবল দলের প্রতিপক্ষ ছিল তেরোখাদা ফুটবল দল। এ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় বাগুডাঙ্গা। প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে না দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় দলটি। এ জয়ের মধ্য দিয়ে ফাইনালে ওঠে বাগুডাঙ্গা, আর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হয় মোল্লাহাট।
ফাইনালে দুই দলের মধ্যে জমে ওঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কেউ কাউকে সহজে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে জয়-পরাজয় নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে মোল্লাহাটকে পেছনে ফেলে শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে বাগুডাঙ্গা ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। আর এ জয়ের মধ্য দিয়ে চার দলীয় টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে দলটি।
খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এমন প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা বাড়ানো এবং তরুণদের মাঠমুখী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের মধ্যে দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে।
নড়াগাতীতে আয়োজিত এ চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার আরও সুযোগ পাবেন।