
নিজাম উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রনেতার কাছে টেন্ডারের লাভের টাকা থেকে ‘জিলাপি খাওয়ার’ দাবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ওসি মনোয়ার হোসেন ছাত্রনেতার উদ্দেশে বলেন, “বললাম যে সেফটি সিকিউরিটি দিলাম তো সারা জীবন। তোমরা যে ১৮ লক্ষ টাকার কাজ করে ১০ লক্ষ টাকা লাভ করলা, দশ টাকার জিলাপি কিনেও তো পাবলিকেরে খাওয়াইলা না। যে খাইয়া একটু দোয়া কইরা দেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের। তোমার জায়গায় আমি হইলে সুদের উপরে টাকা আইনা আগে জিলাপি খাওয়াইতাম। পরেতো বিল পামু, তাই না?” কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওসি বলেন, “ঠিক আছে, তাহলে জিলাপির অপেক্ষা করলাম নাকি? একপ্যাঁচ আদা প্যাঁচ জিলাপি দিলে হইবো।”
অডিওটি প্রকাশের পর সরব হন সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতা আফজাল হুসাইন শান্ত। তিনি জানান, “আমি ইটনা উপজেলার বলদা হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধের ১,৪৮০ মিটার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছি। কাজ শেষে থানায় গেলে ওসি একাধিকবার ‘জিলাপি খাওয়ার’ কথা বলেন। প্রথমে রেকর্ড করতে না পারলেও পরে ফোনে আলাপের সময় কথোপকথন রেকর্ড করি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি কাজ করেছি নিয়ম মেনে, সেখানে কেউ যদি এমনভাবে লাভের ভাগ চায়, তাহলে সাধারণ ঠিকাদার বা জনগণের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।” তিনি ঘটনাটির বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি মজার ছলে কথা বলেছি, টাকা চাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। রেকর্ডটি এডিটেডও হতে পারে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন বলেন, “এটি শুধু একটি জিলাপির বিষয় নয়, বরং প্রশাসনিক দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানাই।”
এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, “অডিওটি আমরা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছাত্রনেতার দাবি আর অডিও রেকর্ডের সত্যতা মিলিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে ঘটনা ইতোমধ্যে প্রশাসনের ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।