
হাকিকুল ইসলাম খোকন নিউইয়র্ক
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাস নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ক্ষমার প্রশ্নই আসে না:
ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় তার ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না। জবাবে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্টকে আমি সম্মান করি এবং আমি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেও সম্মান করি। আমি মনে করি, আমরা খুবই খোলা মনের ও সৎ। তবে আমি এটা নিশ্চিত নই যে আমাদের মাঝে খারাপ কিছু হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার সম্ভব। এটি শুধু দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যকার বিষয় নয়, বরং আমাদের জনগণের মাঝেও ঐতিহাসিক এবং শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।”
কী হয়েছিল ওভাল অফিসে?
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন জেলেনস্কি।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই অভিযোগ করে বলেন, “কিয়েভকে সহযোগিতা করার জন্য জেলেনস্কি কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাননি।”
বৈঠকের একপর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়, যা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পূর্বনির্ধারিত কনফারেন্স বাতিল করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন।
বাতিল হলো ঐতিহাসিক চুক্তি:
ওই কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই প্রেসিডেন্টের বাগবিতণ্ডার জেরে সেই চুক্তি আর হয়নি, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।