
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
বর্ষা মৌসুম ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রতিদিনই অস্থির হয়ে উঠছে সবজি, মাছ ও মুরগির বাজার। গত কয়েকমাস ধরেই এ অস্থিরতা চললেও চলতি সপ্তাহে দাম আরও বেড়ে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত সবজির দাম বেড়েছে। ধুন্দল ৪০-৫০, শসা ৫০-৮০, পেঁপে ২০, ঝিঙে ৬০-৮০, কহি ৫০-৬০, আলু ২০-২৫, আমড়া ৬০, কচুর মুখি ৪০, করলা ৮০, ঢ্যাঁড়শ ৭০-৮০, টমেটো ১২০-১৪০, বরবটি ৬০, মূলা ৮০, পটোল ৭০, কাঁকরোল ৬০, বেগুন ৮০-১০০ ও কচুর লতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি লাউ ৬০-৭০ টাকা এবং চালকুমড়া ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে—গরুর মাংস ৭৬০-৮০০, খাসির মাংস ১২০০ এবং ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম ডজনপ্রতি ১৩০, সাদা ডিম ১২০, হাঁসের ডিম ২২০-২৩০ এবং দেশি মুরগির ডিম ২৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে ইলিশে। এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২১০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৭৫০-১৮৫০, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে অন্যান্য মাছের দাম চড়া অবস্থায় আছে। বোয়াল ৭৫০-৯০০, কোরাল ৮০০-৮৫০, আইড় ৭০০-৮০০, পাবদা ও শিং ৪০০-৫০০, চাষের ট্যাংরা ৭৫০-৮০০, কাঁচকি ৬৫০-৭০০, মলা ৫০০-৫৫০, রুই ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ২০০, পাঙাশ ১৫০-২০০, বাইলা ৮৫০, টেংরা ৮০০ এবং চিংড়ি ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম লাগামহীন হওয়ায় তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে।