
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এলডিডিপি (লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্ট ফর ডিসঅ্যাডভান্টেজ পিপল) প্রকল্পের অর্থায়নে আধুনিক ওয়েট মার্কেট (Wet Market) চালু করতে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। এই মার্কেট স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাঁচাবাজারের লেনদেনকে আরো সুশৃঙ্খল, সুরক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ আল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “এই ওয়েট মার্কেট ডুমুরিয়া উপজেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি শুধু মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নয়, বরং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশেও ভূমিকা রাখবে। আধুনিক ও সুন্দর পরিবেশে নির্মিত এই বাজারটি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি চমৎকার স্থান হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই বাজার এলাকার মানুষের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।”
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওয়েট মার্কেট কার্যক্রমের আওতায় মাংস বিক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। যারা মার্কেট ঘর বরাদ্দ নিতে আগ্রহী, তাদের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল কবির ওয়েট মার্কেটটির সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও বায়োমেডিকেল অনুষদের ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ। তিনি বলেন, “ওয়েট মার্কেট হলো এমন একটি বাজার যেখানে তাজা মাংস, মাছ, শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়। কিছু কিছু দেশে এখানে জীবন্ত প্রাণীও বিক্রি করা হয়। এটি এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বেশি প্রচলিত। অনেক দেশে একে ‘পাবলিক মার্কেট’ হিসেবেও ডাকা হয়।”
তিনি আরও জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং এলাকার খামার, ফিড মিল, ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ওয়েট মার্কেট পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ওয়েট মার্কেট কার্যক্রম আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথে একটি মাইলফলক হবে। এটি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনকে নিরাপদ ও গতিশীল করার পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।