
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রথমবারের মতো পানি সাশ্রয়ী ড্রিপ সেচ পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের সফল চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক নবদ্বীপ মল্লিক। উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া এলাকায় ২০ শতক জমিতে এই ফল চাষের প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করেছে এনজিও সংস্থা নবলোক পরিষদ। অর্থায়নে রয়েছে কৃষি ইউনিট, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
ড্রাগন ফল আমেরিকার প্রসিদ্ধ ক্যাকটাসজাতীয় একটি ফল, যা বাংলাদেশে প্রথম আসে ২০০৭ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি ড্রাগন ফল-১ জাতটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
নবলোক পরিষদের সহায়তায় এই চাষে ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রয়োগে ৭০% পানি ও ৫০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, “এই প্রযুক্তি সারের অপচয় কমায়, উৎপাদন বাড়ায় এবং ভূমিক্ষয়ও রোধ করে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনা অঞ্চলে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ড্রিপ সেচ পদ্ধতি একটি যুগোপযোগী প্রযুক্তি, যা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।”
চাষি নবদ্বীপ মল্লিক বলেন, “সঠিক প্রক্রিয়ায় চারা রোপণ, সেচ ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। ফল ধরার জন্য লতানো গাছগুলোকে টায়ার ও খুঁটির মাধ্যমে সাপোর্ট দিতে হয়, যাতে ঝুলন্ত ডগায় অধিক ফল ধরে।”
প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদন, জৈব সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, বীজ ও উপকরণ বিতরণসহ নানা কৃষি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে নবলোক পরিষদ।