
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এক সময় বর্ষা মৌসুমে পুকুর-ডোবা, নদী-নালা ও জলাভূমিতে ঘেরা থাকত দেশের জাতীয় ফুল শাপলা। তবে বর্তমানে এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন শাপলা ফুল প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।
শাপলা কোন প্রকার পরিচর্যা ছাড়াই গ্রামাঞ্চলের জলাশয় ও জলাভূমিতে জন্মে থাকে। এই ফুল শুধু চোখের মণি নয়, এর বিভিন্ন অংশের ঔষধি গুণ এবং ফলের কালো কালো ‘চাউলিয়া’ নামে পরিচিত দানাগুলো একসময় স্থানীয় মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করত। বর্ষার পরে মহিলারা শাপলার ডানা শুকিয়ে ভাজা ঢ্যাপের খৈ তৈরি করতেন এবং শুকনো মৌসুমে শিশুরা শালুক সংগ্রহ করে আগুনে পুড়ে খেত।
খুলনা জেলায় শাপলার চাহিদাও ছিল ব্যাপক। বর্ষাকালে বিভিন্ন হাট-বাজারে এটি সবজি হিসেবে বিক্রি হত। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক পুকুর, নদী ও খাল ভরাট, জমিতে বাণিজ্যিক মাছ চাষ, এবং কৃষিতে অতিমাত্রায় আগাছা নাশক ওষুধের ব্যবহার শাপলার জন্মস্থলগুলো ধ্বংস করেছে। তাই ডুমুরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে শাপলার অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন পুকুরে কেবলমাত্র গুটিকয়েক শাপলা ফুটে থাকতে দেখা গেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পুকুর খর্এলাকায় অবস্থিত।
শাপলা সাধারণত বর্ষার শেষ থেকে শরৎকালে গ্রামাঞ্চলের জলাশয় ও নিম্নভূমিতে জন্মায়। কিন্তু বর্তমানে নিচু জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ ও মাছের ঘেরের জন্য জলাশয়গুলো পরিস্কার হওয়ায় শাপলার বিস্তার বন্ধ হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইনসান ইবনে আমিন বলেন, “ডুমুরিয়ার পতিত জমি ও গর্ত জমিতে মাছ চাষের কারণে জাতীয় ফুল শাপলা বিলুপ্তির পথে রয়েছে।”
এদিকে খুলনা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, “ডুমুরিয়া উপজেলায় মাছ চাষ এবং জমি পতিত না থাকার ফলে শাপলা জন্মানোর সুযোগ কমে গেছে।”
তবে কৃষি বিভাগের মতে, খুলনার অনেক অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শাপলা চাষের সুযোগ রয়েছে, যা বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে। রাস্তার ধারের খালগুলো শাপলা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করলে গ্রামীণ সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে এবং বাজার চাহিদাও মিটতে পারবে।