
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অটোমেটিক ব্লক ইট তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে, যা এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় ইট সরবরাহ করছে। আধুনিক প্রযুক্তির মেশিনে নির্মিত এই ব্লক ইট বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদার, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সরদার, কোষাধ্যক্ষ মোঃ কামরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান মোড়লসহ নতুন কমিটির নেতারা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা পরিদর্শন করেছেন।
স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ইট তৈরি:
বিসিক শিল্প নগরীতে এফ.কে হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামের প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় ব্লক ইট তৈরির মেশিন তৈরি করছে। এ মেশিন তৈরিতে লোহা ব্যবহার করা হয়, যা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিটি মেশিনে ইট তৈরি করতে ৮ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। একটি মেশিনে তিনটি চেম্বার থাকে— মিক্সার মেশিন, কনভেয়ার বেল্ট ও হাইড্রোলিক প্রেস। মেশিনের ধরণ অনুযায়ী অটো, সেমি-অটো ও ম্যানুয়াল প্রযুক্তির মেশিন তৈরি হচ্ছে এখানে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি:
কারখানার প্রকৌশলীরা জানান, একটি মেশিন তৈরিতে খরচ পড়ে ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা, যা বাজারে ১২ থেকে ২২ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিটি মেশিন থেকে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।
জেসি ব্রিকস কৈয়ার মালিক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফারুক জানান, “এই প্রকল্পটি মূলত পাইলটিং ছিল, তবে ভালো সাড়া পাওয়ায় এবার থেকে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হবে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজিতে ইট কারখানা গড়ে তুলতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আগে চীন থেকে মেশিন আমদানি করা হতো, যা ব্যয়বহুল ও জটিল ছিল। এখন দেশেই মেশিন তৈরি হচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ।”
বর্তমানে এই কারখানায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন, তবে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হলে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে মেশিনের দাম আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডুমুরিয়ার এই ব্লক ইট কারখানা নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।