
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
বাংলা বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ আজ শুরু হলো। দীর্ঘ দিন ধরে প্রচলিত “মধুমাস” উপাধি এখন আর শুধু চৈত্র মাসের একক পরিচয় নয়—রসালো ফলের প্রাচুর্যে বাংলার মানুষের কাছে জ্যৈষ্ঠও এখন এককথায় মধুমাস।
প্রচণ্ড তাপদাহে ক্লান্ত জনজীবনের মাঝে এই মাস এনে দেয় এক ভিন্নতর আনন্দ ও স্বস্তির পরশ। বিশেষত, ডুমুরিয়ার প্রতিটি হাটবাজারে এখন রঙিন হয়ে উঠেছে বাহারি ফলের পসরা—আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, আনারস, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফলের গন্ধে মৌ মৌ করছে বাজারপাড়া।
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ডুমুরিয়া বাজার ছাড়াও চুকনগর, আঠারো মাইল ও খর্নিয়া বাজারে এখন প্রতিদিনই জমছে ফলের উৎসব। দোকানিরা বলছেন, দিনে দিনে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে, পাশাপাশি দামও কিছুটা সহনশীল পর্যায়ে আছে।
প্রাকৃতিকভাবেই এই সময়টায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়ে ওঠে। কৃষক ও ফলচাষিদের মুখে হাসি ফোটে। বাজারে বিপণনের মধ্য দিয়ে কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়, আর শহরবাসীর জন্য ফল হয়ে ওঠে উপহার ও আপ্যায়নের অন্যতম উপাদান।
দেখা গেছে, অফিস শেষে কর্মজীবীরা বাসায় ফিরছেন ফলের ব্যাগ হাতে, দিনমজুর থেকে শুরু করে ইজিবাইক চালকও কিনে নিচ্ছেন মৌসুমি ফল।
জ্যৈষ্ঠের এই শুরুতে প্রকৃতি যেমন ফলের মাধুর্যে ভরে উঠছে, তেমনি মানুষের মুখেও ফিরছে তৃপ্তির হাসি। খোদ প্রাকৃতিক উত্তাপের মাঝেই যেন প্রকৃতি নিজ হাতে মধুর উপহার তুলে দিচ্ছে বাঙালির রসনাতৃপ্তির জন্য।
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই ডুমুরিয়ার প্রতিটি হাটবাজারে জমে উঠেছে মৌসুমি ফলের বর্ণিল উৎসব। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, চলতি মৌসুমে ফলের বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক চক্রে নতুন গতি আসবে।