
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নলঘোনা বিলে মাচা পদ্ধতিতে চাষ হওয়া বর্ষাকালীন তরমুজ এখন পৌঁছে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বাজারে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এই অফসিজন তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। এতে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিতে পানি জমে থাকার কারণে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের আইলে তরমুজ ও শাকসবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ফলে প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষকরা সফল হচ্ছেন।
ডুমুরিয়ার তরমুজ আকারে আকর্ষণীয়, ভেতরে লালচে ও মিষ্টি। একেকটির ওজন ৪ থেকে ৫ কেজি বা তার বেশি। নলঘোনা, রাজিবপুর দক্ষিণমহল, রাজাপুর, মৈখালী, ঘোনাবান্দা, উলা, তালতলা, লোহাইডাঙ্গা ও কাটাখালী এলাকার প্রায় ৪-৫ শত কৃষক এ মৌসুমে তরমুজ চাষ করেছেন। যদিও অতিবৃষ্টিতে ফলন কিছুটা কমেছে, তবুও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।
গত বৃহস্পতিবার রাজিবপুর দক্ষিণমহল তালতলা মোড়ে দেখা যায়, নলঘোনা বিলের তরমুজ ট্রাকে বোঝাই করে শ্রীমঙ্গলে পাঠানো হচ্ছে। কৃষক মো. ওসমান গনি জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ৫৬০টি চারা রোপণ করে শুরুতে প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করলেও বর্তমানে ৩৬-৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষক আবুল কালাম শেখ জানান, তিনি দুই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, যার প্রতিটি তরমুজের ওজন গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি। তিনি ভালো লাভের আশা করছেন। তরমুজ ব্যবসায়ী নাজমুল গাজি ও হাফিজুর রহমান বলেন, “স্থানীয় বাজারের তুলনায় বাইরের বাজারে দাম কিছুটা বেশি। ট্রাক ভাড়া বেশি হলেও শ্রীমঙ্গলে তরমুজের চাহিদা ভালো।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, এ বছর ডুমুরিয়ায় ২৩০ হেক্টর জমিতে অফসিজন তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে ৪০-৪৫ মেট্রিক টন। বিশেষ করে নলঘোনা, কুলবাড়িয়া, খুটোখালী, শোভনা, আটলিয়া, পাতিবুনিয়াসহ দক্ষিণ ডুমুরিয়ার বিলে ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে।