
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন হাসপাতাল নয়, বরং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা চিকিৎসা ও সাধারণ বর্জ্যের দুর্গন্ধে রোগী, স্বজন, এমনকি চিকিৎসকরাও অতিষ্ঠ। টয়লেটের নোংরা অবস্থা এবং অপরিষ্কার পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত শয্যার বাইরে করিডোর, সিঁড়ি ও মেঝেতে পাটি বিছিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চারপাশে ছড়িয়ে আছে পচা রক্তের ব্যাগ, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত গজ, তুলা, অপারেশনে ব্যবহৃত সামগ্রী, ওষুধের শিশি, স্যালাইনের ব্যাগ ও অন্যান্য বর্জ্য। টয়লেটের ভিতরে ও আশপাশে পচা খাবারের প্যাকেট, পলিথিন, কাগজ ও চিকিৎসা বর্জ্য উপচে পড়ছে। পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।
পুরাতন ভবনের ওয়ার্ডগুলোর পরিস্থিতি আরও করুণ। টয়লেটে নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন, পানির অভাব প্রকট, অনেক জায়গায় ছিটকানি ও বদনাও নেই। টয়লেটের ভেতরে মলমূত্র জমে থাকা, পানি বাইরে গড়িয়ে পড়া এবং চারপাশে আবর্জনার স্তূপ—সব মিলিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কোহিনূর নামে এক রোগীর স্বজন জানান, “প্রতিদিন সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চিকিৎসা বর্জ্য একসাথে ফেলা হচ্ছে। ময়লা ভরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু পরিষ্কার করার তেমন উদ্যোগ নেই। এতে রোগ-জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
এদিকে ধারণক্ষমতার তুলনায় তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা সঙ্কুলান না হয়ে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগ ও অফিসকক্ষের পাশেও বর্জ্যের দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক বলেন, “পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকায় ড্রেন ও ডাস্টবিনে ময়লা জমে আছে। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগের জন্য লিখেছি। পরিচ্ছন্ন কর্মী পেলে পরিস্থিতি উন্নত হবে।”
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।