
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গলীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের স্বপ্ন, সহপাঠীদের আশা আর শিক্ষকদের প্রত্যাশা—সবকিছুকে স্তব্ধ করে দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে থেমে গেল এক মেধাবী তরুণের জীবনযাত্রা।
গতকাল শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) গভীর রাতে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজারপাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে অনন্য গাঙ্গলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনন্য গাঙ্গলী ছিলেন কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পি কে গাঙ্গলী চ্যাটার্জি ও কোটচাঁদপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী গাঙ্গলীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এক পরিবারের দুই সন্তান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়ন করায় কোটচাঁদপুরে পরিবারটি ছিল গর্বের প্রতীক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার বাবা অধ্যাপক পি কে গাঙ্গলী বলেন, “ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। আমরা চিকিৎসার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এমন পরিণতি হবে, তা ভাবতেই পারিনি।”
ঘটনার পরপরই কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অনন্যের মৃত্যুতে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক ও স্মৃতিচারণে ভরে উঠেছে টাইমলাইন। অনেকেই বলছেন, একটি সম্ভাবনাময় জীবন এভাবে হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়—সমাজ ও দেশের জন্যও বড় ক্ষতি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলার বিষয় নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহপাঠীদের মধ্যে কেউ যদি দীর্ঘদিন বিষণ্নতায় ভোগেন, তবে তার পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সময়মতো সহানুভূতি ও পেশাদার সহায়তা একটি জীবন বাঁচাতে পারে।