
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় অফসিজন তরমুজ ও রকমেলন চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একসময় শুধুমাত্র মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল ঘেরগুলোতে এখন পাশাপাশি ফল চাষ করে দ্বিগুণ আয় করছেন কৃষকরা। মাছের পাশাপাশি এসব পুষ্টিকর ফল উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
নলামারা ও আজগড়া এলাকায় কৃষি অফিসের পরামর্শে গত বছর কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে ঘেরের পাড়ে রকমেলন ও তরমুজ চাষ করেন। আশাতীত ফলন ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় এ বছর আবাদ আরও বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ১৭ হেক্টরে রকমেলন এবং ৩৪ হেক্টরে অফসিজন তরমুজ চাষ হচ্ছে।
নলামারার কৃষক বিকাশ মুনি জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এ মৌসুমে তিনি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনি বলেন, “অফসিজন হওয়ায় দামও ভালো পেয়েছি। মাছের পাশাপাশি এই ফল চাষ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে।” একই গ্রামের তফছির শেখ বলেন, আগে শুধুমাত্র মাছ চাষ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন ঘেরের পাড়ে তরমুজ ও রকমেলন চাষ করায় আয়ের পথ বেড়েছে এবং পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে। আজগড়ার তরুণ কৃষক হৃদয় বলেন, তিনি পরীক্ষামূলকভাবে রকমেলন চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন এবং আরও ৫০ হাজার টাকার ফসল বিক্রির অপেক্ষায় আছেন।
তেরখাদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ মৌসুমে ১৭ হেক্টর জমি থেকে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন রকমেলন উৎপাদিত হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকেরা সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “আগামীতে এ অঞ্চলে অফসিজন তরমুজ ও রকমেলনের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশা করছি। এতে করে মাছের পাশাপাশি ফল উৎপাদন কৃষকদের জন্য টেকসই আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”

তেরখাদা উপজেলায় প্রায় সাত হাজার মাছের ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের পাড়কে কাজে লাগিয়ে কয়েকশো কৃষক এখন তরমুজ ও রকমেলন চাষ করছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে এসব ফল। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু কৃষকদের আয় বাড়াবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির বহুমুখীকরণে অবদান রাখবে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘেরে মাছ চাষের সঙ্গে ফলের আবাদ একত্রে হওয়ায় একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় সম্ভব হচ্ছে। আর এ কারণে তেরখাদা আজ খুলনার একটি কৃষি উদ্ভাবনের মডেল এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।