
তেরখাদা প্রতিনিধি
তেরখাদার চিত্রা মহিলা ডিগ্রী কলেজে আজ ২২ নভেম্বর সকাল ১০টায় কৃতি শিক্ষার্থী ও নবীন ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম আলী নেওয়াজ।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও মনোভাবকে উদারতার সঙ্গে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, “কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যতের সেরা সম্পদ। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। নবীন ছাত্রীদেরও উৎসাহিত করতে আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমানভাবে বিকাশিত হওয়া দরকার। চিত্রা মহিলা ডিগ্রী কলেজ এই মিশ্রণ সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। নবীন ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়ার এই আয়োজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য গর্বের বিষয়।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, “সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কেবল সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয় না, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব গুণাবলীর বিকাশেও সহায়তা করে। আমরা চাই কলেজ থেকে শিক্ষিত প্রতিটি ছাত্রী সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।”
কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য ও সমাজসেবক সরদার আব্দুল মান্নানও তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা জানান এবং বলেন, “সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের জন্য গৌরবের, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দীপনা জাগানোর অনুষ্ঠান।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বাছাড়ের সঞ্চালনায় সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক (অবঃ) কে এম আলী এহসান, কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য এইচ.এম. রহমাতুল্লাহ ও মোঃ ফরিদ আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং প্রভাষক মোঃ আবু জাফর।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে নবীন ও কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা প্রকাশ করেন। উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক এবং অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স উপভোগ করেন এবং তাদের প্রশংসা করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কৃতি শিক্ষার্থী ও নবীনদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্ব গুণাবলী বিকাশ এবং একাডেমিক ও সামাজিক পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করে। এ ধরনের উদ্যোগ কলেজকে একটি শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করছে।