
মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী এক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজ। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। একই সঙ্গে পরিবারটিকে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মোসলেম ফরায়জি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি স্ত্রী ও পাঁচ কন্যাসন্তান নিয়ে বসবাস করেন। পরিবারের আয়-উপার্জনের প্রধান ভরসা দুই কন্যা, যারা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত থেকে বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং অন্য দুই কন্যার পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোসলেম ফরায়জি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পৈত্রিক সম্পত্তির একটি অংশ কন্যাসন্তান ও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করার পর থেকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে বসতঘর দখল ও পারিবারিক সদস্যদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও জানান, বিষয়টি মূলত পারিবারিক বিরোধ হলেও মানবিক দিক বিবেচনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজ ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি দেখে তারা মানবিক বিবেচনায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এবং বসতঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক এ বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য প্রশাসনের উদ্যোগে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।