
খুলনার দাকোপ উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ ও অশূর বধের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। এ বছর উপজেলায় ৭৬টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ১০টি বেশি।
কারিগরদের মতে, এবার প্রতিমা তৈরির খরচ বেড়েছে। প্রতিটি প্রতিমায় গড়ে ২০ পিস বাঁশ, ৫শ আটি বিচালী, ১০ কেজি সুতলি, চার ভ্যান মাটি, ৩০ গজ চট, ৫ কেজি পাটের আঁশ ও ১০ কেজি পেরেক লাগে। তবে উপকরণের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতি পিস বাঁশ ৩৫০ টাকা (আগে ৩০০), সুতলি প্রতি কেজি ২০০ টাকা (আগে ১৬০), প্রতি গজ চট ৮০ টাকা (আগে ৬৫), প্রতি কেজি পাটের আঁশ ২০০ টাকা (আগে ১৫০) এবং এক ভ্যান মাটি এক হাজার টাকা। শুধু রংয়ের কাজেই খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। ফলে একেকটি প্রতিমা তৈরিতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।
কারিগর অরবিন্দু পাল বলেন, উপকরণের দাম বাড়ায় লাভ কম হলেও সাজসজ্জায় বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। মা দুর্গার অশূর নিধনের দৃশ্য ছাড়াও গাছ, ফুল, গ্রাফিক্স ডিজাইন যুক্ত করা হচ্ছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার রায় জানান, পূজার প্রস্তুতি সুন্দরভাবে এগোচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা, দেশে যেন শান্তি ও সুসম্পর্ক বজায় থাকে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন জানান, প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। দাকোপ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে দুইটি করে মোবাইল টিম কাজ করবে এবং সেনা সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।