
দিঘলিয়া প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিক এস. এম. শামীমের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছে একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
দিঘলিয়া থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক শামীমের মামাতো বোন সেলিনা বেগম ও তাঁর স্বামী বাদশা মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। পারিবারিক নির্যাতন ও বিরোধের কারণে ৫ অক্টোবর সেলিনা বেগম তাঁর স্বামী বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিঘলিয়া নৌবাহিনীর বরাবর দাখিল করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে উপস্থিত হতে বলেন। ওই সময় সেলিনা বেগম তাঁর ফুপাতো ভাই সাংবাদিক এস. এম. শামীমকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। শুনানিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সাংবাদিক শামীমকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। সাংবাদিক শামীম তাতে সম্মতি জানিয়ে এক সপ্তাহ সময় চান।
কিন্তু ঘটনার মাত্র দুই দিন পর, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাদশা মিয়া সাংবাদিক শামীমের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়ে চলে যান।
সাংবাদিক শামীম জানান, ঘটনার সময় তিনি গোপনে বাদশা মিয়ার কথাবার্তার কিছু অংশ ভিডিও করে রাখেন। পরে তিনি ভিডিওটি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আইনি আশ্রয় নেন।
ঘটনার পর সাংবাদিক শামীম বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একজন সাংবাদিকের বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দিঘলিয়া ও খুলনা জেলার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলেন, “একজন গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া মানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।” তাঁরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।