
এস.এম. শামীম, দিঘলিয়া (খুলনা)
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের নন্দন প্রতাপ এলাকায় সাবেক স্বামীর হাতে বর্তমান স্বামী খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আল-আমিন (৩২) স্থানীয় এক টিনশেড ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আল-আমিনের স্ত্রী রিপা বেগম (৪০) ও দুই মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রিপার অভিযোগ, তার সাবেক স্বামী আসাদুল ইসলাম (আপন, ৪৪) ভোরে বাসার দরজা খুলতে বলে ডাক দেন। দরজা খুলে আল-আমিন মাথা বের করার সঙ্গে সঙ্গে আসাদুল দা দিয়ে মাথায় কোপ দেন এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। হামলায় আল-আমিনের স্ত্রীও হাত কেটে আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ভ্যানগাড়িতে করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পথিমধ্যে আল-আমিনের মৃত্যু হয়।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঘটনার পর আসাদুল ইসলাম নিজ জেলা ঝিনাইদহে বসে মোবাইল ফোনে পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নন্দন প্রতাপ এলাকায় কেউ তাকে ঘটনাস্থলে দেখেনি—শুধু সাবেক স্ত্রী ও দুই মেয়ে দেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমার সঙ্গে রিপা বেগমের প্রায় ২২ বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। আমাদের চার সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে সে আমাকে তালাক দেয় এবং কয়েক মাস আগে আল-আমিনকে বিয়ে করে। আমি বর্তমানে ঝিনাইদহে থাকি।”
নিহত আল-আমিন (৩০) বারাকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত কাওছার শেখের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নন্দন প্রতাপ এলাকায় পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।