
এস. এম. শামীম, দিঘলিয়া
ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জনসংখ্যার আধিক্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বনভূমি উজাড়, সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে দেশে দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহড়া ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হুসাইন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে ও পরে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা সাঈদা খাতুন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুনায়েম খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, আইসিটি কর্মকর্তা, দিঘলিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল আজিম, ফায়ার স্টেশন লিডার মোঃ রফিকুল ইসলাম, আজিজ এবং ইউপি সদস্য পলি আক্তার।
এ ছাড়া দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সৈয়দ জাহিদুজ্জামান ও এস. এম. শামীমসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সুধীজন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শেষ হয়।