
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর হুমায়ুন কবীর, তার স্ত্রী বেবী আলিয়া হাসনাত এবং তার বাবা কাঠমিস্ত্রি মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাগুলিতে তাদের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
৫ মার্চ, ২০২৫, দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপসহকারী পরিচালক মো. শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। দুদক সূত্র জানায়, প্রথম মামলায় হুমায়ুন কবীর, তার স্ত্রী বেবী আলিয়া হাসনাত এবং তার বাবা আলী হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ এবং সাড়ে ১৬ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় বেবী আলিয়া হাসনাত, তার স্বামী মো. হুমায়ুন কবীর এবং তার শ্বশুর মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবীর ও তার স্ত্রীর নামে ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকা এলাকায় ৫১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ জমি রয়েছে। এ জমির বাজার মূল্য ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুমায়ুন কবীর এই জমিগুলি তার স্ত্রী ও বাবার নামে কিনে পরে নিজের নামে স্থানান্তর করেছেন, যা সম্পদ রূপান্তরের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের নামে স্কাবো মেডিকেল টেকনোলজি (প্রাইভেট) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানেও ১ হাজার ৩৫০টি শেয়ার রয়েছে, যা তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।
হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তার সমস্ত সম্পদ বৈধ এবং এর উৎসও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমার যা সম্পদ তার হিসাব আমি দুদকে জমা দিয়েছি। সব সম্পদ বৈধ এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ নেই।”
তবে দুদক কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলছে এবং এর ফলাফল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।