
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে হাঁসের খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মোশারেফ হোসেন মাঝি ও তার মেয়ে মারুফা আক্তার। কম পুঁজিতে লাভজনক এ খামার পরিচালনায় সরকারি সহায়তার অভাব ও চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝি বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের হাঁসের অবাধ বিচরণ, ডিম সংগ্রহের ব্যস্ততা ও খামার পরিচালনার কার্যক্রম।
খামারি মোশারেফ হোসেন মাঝি জানান, বয়সের কারণে আগের কর্মক্ষমতা না থাকায় গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭৮ শতাংশ জমিতে হাঁসের খামার স্থাপন করেন। শুরুতে খাকি ক্যাম্বল ও চিংডিং জাতের ১,৩০০ হাঁসের বাচ্চা প্রতিটি ২০০ টাকা করে কিনে খামার পরিচালনা শুরু করেন।
হাঁসের খাদ্য হিসেবে শুটকি, ভুট্টা, চালের কুঁড়া, ঝিনুকের গুঁড়া ও ডালের গুঁড়া ব্যবহার করায় দৈনিক গড়ে ৬,০০০ টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০০টি ডিম সংগ্রহ করা হয়, যা স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি হালি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। খরচ বাদে দৈনিক আয় হয় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। বর্তমানে খামারে আনুমানিক ৮ লক্ষাধিক টাকার হাঁস রয়েছে।
খামার পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ১০০-এর বেশি কবুতর পালন করেন মোশারেফ মাঝি। প্রতি মাসে ৩৫-৪০ জোড়া কবুতর বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করেন।
এ বিষয়ে দুমকী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (এলডিডিপি) ডা. অশোক হালদার জানান, হাঁসের খামার সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খামার মালিক যদি প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেন, তাহলে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় হাঁসের খামারটি সরকারি সহায়তা পেলে আরো লাভজনক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।