
ডেস্ক নিউজ
খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে সরকারি চাকুরি থেকে জোর করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করানোর পেছনে কাজ করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠছে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আবু শাহীন এর বিরুদ্ধে। প্রেস ব্রিফিং এমন সব তথ্য দিলেন হাসপাতালের কর্মকর্তা, নার্স ও স্টাফরা। বের হয়ে আসতে থাকে হাসপাতালের দুর্নীতি। কর্মকর্তা, স্টাফ ও নার্সদের বিভিন্ন প্রশ্নে তোপের মুখে পড়লেন হাসপাতালের পরিচালক।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে হাসপাতালের সকল ডাক্তার, নার্সম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনর শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিতি ছিলেন ।
প্রেস ব্রিফ্রিং-এ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজনীন আক্তার বলেন, বর্তমান শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক আবু শাহীন ও একই হাসপাতালের আরএমও ডা: প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথসহ কিছু অসাধু স্টাফদের নিয়ে তারা দূর্নীতির পাহাড় গড়েছে। এমনকি হাসপাতালের কিছু এ্যাম্বুলেন্স মেরামত করানোর জন্য গত জুন মাসে সরকারী টাকা তুলেছে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা, কিন্তু কোন একটি গাড়ির কাজ করানো হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক জানান, আমরা কাজ করানোর চেষ্টা করছি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শোকসজ, প্রমশন আটকানোর মত কাজ তিনি করছেন বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মিটিং-এর নাম করে সরকারী গাড়ি যশোর নিয়ে যাওয়া, ওষুধ চুরি, ওটি রুমের ৮ লাখ টাকার মেশিং চুরি করেছেন স্টাফরা এমন তথ্যের কথা শিকার করেছে হাসপাতালের পরিচালক। হাসপাতালে কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘোটলেও তা চিহ্নিত করার জন্য নেই কোন সি সি ক্যামেরা। তবে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকরা পরিচালকের বিরুদ্ধে আনিত বিভিন্ন অভিযোগে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায়সারা উওর দিয়ে এড়িয়ে যান। দূর্নীতির দোষ একে অপরের ঘাড়ে চাপানো ও নিজেদের সৃষ্ট উদ্ভট পরিস্থিতির কারণে দূর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা পাচ্ছিলনা মান সম্মত সেবা।
উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তদন্তে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রকল্প তৎকালিন মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম তদন্তে গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত পিইসি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ একটি কমিটি গঠন করে। গত সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। কমিটি নানা অনিয়মের প্রমাণও পায়। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আরেকটি পিইসি সভায় এসব বিষয় উল্লেখ করেন একজন যুগ্ম প্রধান। ওই সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাপরিপন্থি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এসব কারণে তদন্ত কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে এবং পিইসি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রতিপালনে যথেষ্ট ঘাটতি ও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে মনে করেন হাসপাতালের স্টাফরা। কারণ বর্তমান পরিচালক ডা: আবু শাহীন ডাক্তার, নার্স, স্টাফ, আনছার, কারো সাথে সর্ম্পক ভালোনা, প্রশ্নে পরিচালক ডা: শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পিছনের সব ভুলে নতুন করে হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে সবাই একযোগে কাজ করার কথা জানান।