
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরসিফুড ইকবাল বাহার চোধুরী এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিসি ফুড কাজী সাইফুদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। ইকবাল বাহার চোধুরীকে অতিরিক্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকা-তে এবং কাজী সাইফুদ্দিনকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বরগুনা-তে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বদলি আদেশটি ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে উপ-সচিব জয়নাল মোল্লা স্বাক্ষরিত পত্রে জারি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ইকবাল বাহার চোধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। খালিশপুরের এক ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলার ইমন শেখ দুদকের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুলনা জেলার সদস্য মোঃ রিদোয়ান শেখ তামিমি খাদ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর খুলনার খাদ্য পরিদর্শক সেলিম রেজা প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যা পরে দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, প্রেসক্লাব ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন খুলনার সমন্বয়কদের কাছে প্রেরণ করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল বাহার চোধুরী ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আরসিফুড হিসাবে খুলনাতে যোগদান করেন। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং মন্ত্রীর জামাতা নাসের বেগ-এর ছত্রছায়ায় তিনি দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অবাধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
দ্বিতীয় প্রধান কর্মকর্তা, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ওএমএস চাল-আটা লুটপাটের অভিযোগে জড়িত ছিলেন। চলমান বোরো সংগ্রহের সময় সীমাহীন অনৈতিকতার মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওএমএস পয়েন্ট থেকে নামমাত্র চাল-আটা বিতরণ করা হয়, বাকি অংশ কালোবাজারিদের মাধ্যমে বিক্রি হয় এবং ওই অর্থের একটি বড় অংশ তার কাছে আসে।
সূত্র আরও জানায়, কাজী সাইফুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ৩১তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে খাদ্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পরও তিনি সিনিয়রদের উপেক্ষা করে সুবিধাজনক পোস্টিং নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং শেখ তাপসের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে চলমান ওএমএস ডিলারদের মামলা তাকে এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খুলনা খাদ্য বিভাগের ডিলার ও খাদ্য পরিদর্শকরা ইকবাল বাহার চোধুরী ও কাজী সাইফুদ্দিনের বদলি আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষখেলাপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।