1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

দুর্নীতি অভিযোগের তীব্রতায় খুলনা খাদ্য বিভাগের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা বদলি

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

খুলনা খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরসিফুড ইকবাল বাহার চোধুরী এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিসি ফুড কাজী সাইফুদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। ইকবাল বাহার চোধুরীকে অতিরিক্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকা-তে এবং কাজী সাইফুদ্দিনকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বরগুনা-তে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বদলি আদেশটি ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে উপ-সচিব জয়নাল মোল্লা স্বাক্ষরিত পত্রে জারি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইকবাল বাহার চোধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। খালিশপুরের এক ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলার ইমন শেখ দুদকের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুলনা জেলার সদস্য মোঃ রিদোয়ান শেখ তামিমি খাদ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর খুলনার খাদ্য পরিদর্শক সেলিম রেজা প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যা পরে দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, প্রেসক্লাব ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন খুলনার সমন্বয়কদের কাছে প্রেরণ করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল বাহার চোধুরী ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আরসিফুড হিসাবে খুলনাতে যোগদান করেন। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং মন্ত্রীর জামাতা নাসের বেগ-এর ছত্রছায়ায় তিনি দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অবাধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

দ্বিতীয় প্রধান কর্মকর্তা, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ওএমএস চাল-আটা লুটপাটের অভিযোগে জড়িত ছিলেন। চলমান বোরো সংগ্রহের সময় সীমাহীন অনৈতিকতার মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওএমএস পয়েন্ট থেকে নামমাত্র চাল-আটা বিতরণ করা হয়, বাকি অংশ কালোবাজারিদের মাধ্যমে বিক্রি হয় এবং ওই অর্থের একটি বড় অংশ তার কাছে আসে।

সূত্র আরও জানায়, কাজী সাইফুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ৩১তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে খাদ্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পরও তিনি সিনিয়রদের উপেক্ষা করে সুবিধাজনক পোস্টিং নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই এবং শেখ তাপসের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে চলমান ওএমএস ডিলারদের মামলা তাকে এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খুলনা খাদ্য বিভাগের ডিলার ও খাদ্য পরিদর্শকরা ইকবাল বাহার চোধুরী ও কাজী সাইফুদ্দিনের বদলি আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষখেলাপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park