
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা:
২০২৪ উৎপাদন বছরে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাশিসা গ্রামে আহছানিয়া ফিস খামারে বাগদা চিংড়ি চাষে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছেন খামারের মালিক আনারুল। তার খামারের আয়তন ৯.০০ হেক্টর, যার জলায়তন ৪.৮০ হেক্টর। এই খামারে তিনি আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে চাষ পরিচালনা করছেন।
আনারুল সরকারের অনুমোদিত বৈধ উপকরণ ব্যবহার করেন এবং কখনো গ্রোথ হরমোন বা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন না। তার খামারে উৎপাদিত চিংড়ির মান অত্যন্ত উচ্চ এবং সব পরীক্ষায় কোনো নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া যায়নি।
২০২৪ উৎপাদন বছরে তার খামারে ৬১.২৫ মেট্রিক টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে, যা হেক্টর প্রতি ১২.৭৬ মে.টন। এতে ৭০.৮৩ লক্ষ টাকা খরচ করে ১০৯.৩৮ লক্ষ টাকা আয় করেছেন, ফলে হেক্টর প্রতি লাভ হয়েছে ৩৮.৫৪ লক্ষ টাকা। এই সফলতা দেখে আশপাশের অনেক চাষি বাগদা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
দেবহাটা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “এখন উপজেলায় ৩টি আধানিবীড় বাগদা খামার রয়েছে। আধানিবীড় পদ্ধতিতে উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”
উপজেলায় বর্তমানে ৭৭৫টি গলদা ঘের এবং ৭৪৬৯টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। মাছ ও চিংড়ি চাষে সমৃদ্ধ এই উপজেলা দেশীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করছে।