
স্টাফ রিপোর্টার ওয়াহিদ মুরাদ
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ডে ১৭ মার্চ ২০২৫, বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে নতুনতারা সমাজকল্যাণ ও সাহিত্য সংস্থার উদ্যোগে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের খুলনা শাখার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাইফুর রহমান মিনা, মহাসচিব মো. মনিরুজ্জামান আকন, অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল, কবি-সাহিত্যিক আবু আসলাম বাবু, দৈনিক প্রবাহের সাংবাদিক খলিলুর রহমান, নুর ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ মুরাদ, সরদার আবু কায়েসসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন শুধু ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। অপরাধীরা বিচারহীনতার সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, অনেক ক্ষেত্রে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, অপর্যাপ্ত তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ন্যায়বিচার থেকে ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, এর বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, ধর্ষণ মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হোক এবং ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হোক। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ছাড়া এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়।”
সৈয়দ আলী হাকিম ( নজরুলের মানুষ) বলেন, “সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শুধু আইনের প্রয়োগ নয়, পারিবারিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা ও ইসলামের শাসন বাধ্যতামূলক করলে শুধু ধর্ষণ নয় সকল ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা না গেলে আইন প্রয়োগ করেও এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল বলেন, “নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কঠোরতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীদের মানসিক ও আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
কবি-সাহিত্যিক আবু আসলাম বাবু বলেন, “নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণই সভ্য সমাজের প্রতিচিহ্ন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমকে।”
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নারী নির্যাতন রোধে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত সকলে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।