
দেলোয়ার হোসেন খুলনা
দেশ বাংলা একাডেমির উপদেষ্টা ও ব্যাংকার শেখ জামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার নবপল্লী কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত দেশ বাংলা একাডেমির কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।
দেশ বাংলা একাডেমির সভাপতি আমিনুল হক বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রোটারিয়ান আলহাজ হোসাইন মো. ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু। প্রধান আলোচক ছিলেন মানবাধিকার সংগঠক ও নাগরিক নেতা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির উপদেষ্টা মফিজুর রহমান টুকু। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেহেদী ইনছারের পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা দেশ আহমেদ রাজু। বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ডা. নুরুল ইসলাম, সেলিনা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, অর্থ সম্পাদক রঞ্জু আক্তার, প্রচার সম্পাদক মো. মাসুদ গাজী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সামছুল হক, খুলনা বাউল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আলম দেওয়ান, নুরুল ইসলাম গুরু, সাদিয়া, মরহুমের ছোট ছেলে মুশফিকুর হাসান অভি, জামাতা রোমেল শেখ এবং সাংবাদিক অলিন হোসেন অন্তর প্রমুখ।
বক্তারা মরহুম শেখ জামাল উদ্দিনের সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনন্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁকে একজন সৎ, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দোয়া মাহফিলে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মো. ইমরান হোসেন দেওয়ান। এতে একাডেমির উপদেষ্টা, সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় খুলনা রেলস্টেশনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত প্রাণ শেখ জামাল উদ্দিন ছিলেন সোনাডাঙ্গা থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দারুল আমান মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা। জনতা ব্যাংকের খুলনা শাখার সিনিয়র অফিসার (অব.) ও সাবেক ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রেন স্ট্রোকজনিত কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
জীবদ্দশায় তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য, দারুল আমান জামে মসজিদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, দারুল আমান ও দারুস সালাম মহল্লা উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্যসহ অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে মাসকুর হাসান বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন এবং খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে মুশফিকুর হাসান অভি রোটার্যাক্ট ক্লাব অব খুলনা রূপসার সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা মহানগরের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।