
ওয়াহিদ মুরাদ, স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ধনেপাতার দাম হঠাৎ করে চড়া হয়ে উঠেছে। ধনেপাতার আকাশচুম্বি দামে বিপাকে পড়েছে দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষ। বর্তমানে প্রতি কেজি ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে, যা এক মাস আগেও ছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিঘলিয়ার পথের বাজারে কথা হয় কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে। ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা জানান, “বর্তমানে সরবরাহ একেবারেই কম। এজন্য দাম বাড়িয়ে ৬০০ টাকা কেজি রাখতে হচ্ছে। ১০০ গ্রাম বিক্রি করছি ৬০ টাকায়।”
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা রহিম শেখ বলেন, “শীতকালে ধনেপাতা প্রচুর পাওয়া যায়, দামও থাকে সহনীয়। কিন্তু এখন বর্ষা চলছে, বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে ধনেপাতা উঠছে না। যারা একটু চাষ করেছে, তারাও বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছে। এত কষ্ট করেও ফলন কম হচ্ছে।”
এদিকে সাধারণ ভোক্তারা এই অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বাজারে ধনেপাতা কিনতে আসা গৃহবধূ সাবিনা খাতুন বলেন, “ধনেপাতা তো আমাদের রান্নার স্বাদ বাড়ায়। কিন্তু এখন এত দাম যে কিনতেই পারছি না। আগে ২০-৩০ টাকা দিলে এক গোছা ধনেপাতা মিলত, এখন সেই এক গোছা ধনেপাতা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা।”
অন্য একজন ক্রেতা মতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবজির দাম তো আগেই বাড়তি ছিল, এখন ধনেপাতার কেজি ৬০০ টাকা! এভাবে শাকসবজির দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মত গরিব মানুষ পুষ্টির অভাবেই মারা যাবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কিশোর আহমেদ জানান, ধনেপাতা সাধারণত শীতকালীন ফসল। বর্ষাকালে এটির চাষ অত্যন্ত দুরূহ এবং পরিশ্রমসাধ্য। মাটির ক্ষয়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ছত্রাকজনিত রোগে গাছ সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন কম, বাজারে সরবরাহও সীমিত। এরপরেও আমরা এই এলাকার কৃষকদের সব মৌসুমে শাক সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।