
হারুন শেখ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদরের রাখালগাছি পল্লী উন্নয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম এবং একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাছুরা খাতুনের বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ উঠেছে।
৯ এপ্রিল, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবক এবং স্থানীয়রা ধর্মীয় শিক্ষক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিচার এবং অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষকের ক্লাস বর্জন করেছেন এবং তাকে অপসারণ না করলে তারা সকল ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ধর্মীয় শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাছুরা খাতুন বিদ্যালয় চলাকালীন সময় বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলেন এবং তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে আলোচনা চলছে। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তারা আরও জানান, বিষয়টি জানার পরেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, “এ ধরনের অনৈতিক আচরণ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই, তাদের বিদ্যালয় থেকে অপসারণ ছাড়া আর কোন বিকল্প উপায় নেই।”
এ ঘটনায় ধর্মীয় শিক্ষকের স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন বিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বয়স ১১ বছর।
ঘটনার বিষয়ে ধর্মীয় শিক্ষক মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, “ধর্মীয় শিক্ষক রবিউল ইসলাম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাছুরা খাতুনের সম্পর্কের বিষয়ে আমি আগেই অবগত ছিলাম। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আমাকে বিষয়টি জানালে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”