
খুলনার পশ্চিম টুটপাড়ার কবি নজরুল ইসলাম সড়কের দারোগা বস্তিতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন নিলু বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারী। ২২ মে রাতে ফেরদৌসী বেগম পলিকে পরিত্যক্ত একতলা ভবনে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত নিলু বেগম স্থানীয়ভাবে একজন দুঃস্থ মহিলা হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি সুদের টাকার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত নিলু বেগমকে ঘুম থেকে উঠতে না দেখে সন্দেহ হয়। জানালার ফাঁক দিয়ে তারা দেখতে পান, খাটের পাশে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি। পরে খুলনা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের বারান্দা ও কক্ষের তালা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত পরিকল্পিত। দুর্বৃত্তরা ঘরের পশ্চিম পাশের জরাজীর্ণ বাথরুমের ইট সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে নিলু বেগমকে হত্যা করে। হত্যার পর লোহার মিটসেপ ও টিনের ট্রাঙ্ক ভেঙে মালপত্র এলোমেলো করে ফেলে রাখে এবং ঘরের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিলু বেগম স্থানীয় কিছু মানুষের কাছে চড়া সুদে টাকা ধার দিতেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তার ঘরে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিস থাকার বিশ্বাসে তাকে হত্যা করেছে।
খুলনা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও হত্যাকারীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নগরবাসী মনে করছেন, এ ধরনের খুনের ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।