
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়া (নড়াইল) ও নড়াগাতী
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাশেদুজ্জামান। প্রশাসনিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক হয়ে তিনি যে কঠিন বাস্তবতায় দায়িত্ব পালন করছেন, তা প্রশংসনীয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মান নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। সরকারি পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের পদ শূন্য হওয়ার পর রাশেদুজ্জামানের ওপর অর্পিত হয় উপজেলা পরিষদ প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে বর্তমানে এককভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব — উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক — একযোগে পালন করছেন।
দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সরেজমিন পরিদর্শন এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনও সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন ইউনিয়ন ও পৌর কার্যালয়ে বসে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করছেন। তিনি অফিসের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না; মাঠে-ময়দানে উপস্থিত থেকে সেবার মান নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, দফতরিক কাজ ছাড়াও ইউএনও বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। এর মধ্যে রয়েছে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, তরুণদের নিয়ে ‘তারুণ্য উৎসব’, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম চালু করা। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, “চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব আমার ওপর এসেছে। আমি আমার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে। দায়িত্বের পরিধি যত বড়ই হোক না কেন, আমি কাজটিকে আন্তরিকভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। যতদিন এখানে আছি, ততদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাব। জনগণের সহযোগিতা থাকায় এতগুলো কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, “একজন প্রশাসক হিসেবে তিনি সত্যিই অসাধারণ। কাজের মধ্যে সততা ও দ্রুততার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করার তার দক্ষতা আমাদের জীবনে অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। চারটি দফতরের দায়িত্ব একসাথে সামলানো সহজ কাজ নয়, কিন্তু তিনি তা নিখুঁতভাবে করছেন। “আমাদের গ্রাম, বাজার বা ইউনিয়ন যেখানে যাই, তার উপস্থিতি এবং সরাসরি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ আমাদের অনেক নিশ্চিন্ত করেছে। আমরা তার কাজে খুবই সন্তুষ্ট।”