
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইল সদর থানায় গত ৫ অক্টোবর এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ঘটনা উদ্ভূত হয়। বাদী রোজিনা বেগম (৩০), স্বামী মোঃ কেনায়েত বিশ্বাস, তুলরামপুর ইউনিয়নের ছোট মিতনা গ্রামের বাসিন্দা, অভিযোগ করেন যে তার বড় ছেলে মোঃ আমিনুর বিশ্বাস আলিপ (১৫) ৩ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে একটি ব্যাটারী চালিত ইজি ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। বাড়ি ও আশপাশের স্থানগুলো খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত মাঠে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতে মোঃ আমিনুর বিশ্বাস আলিপ ভিকটিম হিসেবে চাচড়া গ্রামের মোঃ মিনারুল বিশ্বাস (২২) ও মোঃ হৃদয় মোল্যা (২০)-এর সঙ্গে ব্যাটারী চালিত ইজি ভ্যান নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত মিনারুল বিশ্বাসকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার ভয়াবহ সত্য উদঘাটন করে।
মিনারুল বিশ্বাস স্বীকার করে, তারা ভিকটিমকে কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে পান করায়। ভিকটিম যখন অচেতন অবস্থায় ছিল, তখন হৃদয় মোল্যা ভিকটিমের পা ধরে রাখে এবং মিনারুল বিশ্বাস গলাচেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তাদের ঘৃণ্য কাজ শেষে মৃতদেহ ডোবার কচুরীপানার নিচে ফেলে যায়। পরের দিন ভিকটিমের ভ্যানের ব্যাটারি খুলে মুচিরপোল এলাকায় বিক্রি করে এবং ভ্যানটি হৃদয় মোল্যার মামার বাড়িতে রেখে আসে।
নড়াইল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুচিরপোল থেকে ভিকটিমের ভ্যানের ব্যাটারি উদ্ধার করে। ৬ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন ভাটিয়াপাড়া থেকে পালানোর সময় হৃদয় মোল্যাকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্ট মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়।
উক্ত ঘটনায় বাদী রোজিনা বেগম নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ০৭, তারিখ: ০৬/১০/২০২৫, ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৭৯/৪১১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০)। আদালতে প্রেরণের পর অভিযুক্ত মিনারুল বিশ্বাস ও হৃদয় মোল্যা হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি ধারা ১৬৪ অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা দ্রুত তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনেছি। নড়াইলবাসীর নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।”