
নড়াইল শহরের নতুন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে তাস খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই মাস পর মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. ইয়ার আলী বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) সকালে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার ভওয়াখালী এলাকায় অবস্থিত নতুন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নিচতলায় তাস খেলাকে কেন্দ্র করে আশরাফুল ইসলাম মুসা (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাস খেলাকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্যের একপর্যায়ে মো. ইয়ার আলী বিশ্বাস তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “সালারে ধর, ওকে খুন করে আমাদের সঙ্গে তর্কের মজা দেখিয়ে দেই।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসামি সিনহা বিশ্বাস পেছন থেকে ভিকটিমের মাথা চেপে ধরে, আরিফুল বিশ্বাস ডান পা এবং পরশ বাম পা চেপে ধরে। এ সময় ইয়ার আলী তার কোমরে গোঁজা ধারালো চাকু বের করে মুসার বুকের ডান পাশে আঘাত করে যা সরাসরি বুকের ভেতরে ঢুকে যায়। আহত অবস্থায় ছটফট করছিলেন মুসা; তখনও তাকে রড দিয়ে মাথা ও হাতের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে আরও গুরুতর জখম করা হয়। এরপর যখন তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন, তখন আসামিরা মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আসামিদের দৌড়ে পালাতে দেখে টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক লিটু সরদার ও নৈশ প্রহরী আশিকুর রহমান রুমে প্রবেশ করে ভিকটিমকে তোষকের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর দ্রুত একটি ভ্যানে করে তাকে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরের নির্দেশনায় তদন্তে গতি আসে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নড়াইল সদর থানার উপপরিদর্শক (নিঃ) নয়ন বিশ্বাস এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে শনিবার ভোরে মূল আসামি মো. ইয়ার আলী বিশ্বাস (৩৫) ও অপর এক অজ্ঞাতনামা আসামি কমরুল বিশ্বাস (৫০) কে ভওয়াখালী বিশ্বাসপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের পর ইয়ার আলী বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এবং এই নির্মম ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া যেন প্রভাবমুক্ত থাকে—সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।