
মো. নুরতাজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
নড়াইলে পুলিশ কর্তৃক জোরপূর্বক জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার শেখহাটি পুলিশ ক্যাম্প চত্বরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শওকত মিনার ছেলে হাসান মিনা লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমার জমি ফেরত চাই, পুলিশের হয়রানির বিচার চাই।” এ সময় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন, শওকত মিনা, মানিক মিনা, নাইমুল ইসলাম, সাহিন মিনা, মিনহাজ সরদার, রফিকুল ইসলাম মনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাসান মিনা অভিযোগ করে জানান, ১৯৯৩ সালে তিনি পর্যায়ক্রমে পৌনে ১৫ শতাংশ জমি কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন এবং সেখানে একটি রাইস মিল, কাপড়ের দোকান ও মুদি দোকান স্থাপন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তবে ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল শেখহাটি পুলিশ ক্যাম্পের তৎকালীন পুলিশ সদস্যরা তাকে বিভিন্ন মামলা ও হামলার মাধ্যমে উচ্ছেদ করে ওই সম্পত্তি দখলে নেয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স তদন্ত করে প্রতিবেদন চায়, যা তার পক্ষে আসে। তৎকালীন নড়াইলের পুলিশ সুপার দলিল নং-১৭২১/১৯৯৯-এর ভিত্তিতে জমি পাওয়ার দাবি করলেও আদালত ২০০০ সালের ২৭ জুলাই সেটি খারিজ করে দেন।
এরপর ছাহাম বণ্টনের মামলা (নং-১৬৫/২০০২) রুজু হলে ২০০৩ সালের ১ ডিসেম্বর আদালত ডিক্রি প্রদান করে জানান যে, শওকত মিনা তার জমির আইনগত মালিক এবং পুলিশ ক্যাম্প উচ্ছেদ করে তাকে জমি দখলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাসান মিনা বলেন, “আমি একজন কৃষকের সন্তান। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। দুই যুগ ধরে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও জমি দখলে নিতে পারছি না। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছি না। আমি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবির বলেন, “আদালতের রায়ের পর রিভিশন করা হয়েছে। মামলা চলমান রয়েছে।”