
নড়াইল, ২০ মে ২০২৫:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বুড়িখালী গ্রামে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। অভিযোগে বলা হয়, ইউসুফ মোল্যা (৫০) নামের এক ব্যক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত আটজন নারীকে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লীতে কাজে লাগিয়েছেন। একই কৌশলে রূপা খানম নামের এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
১৭ মে (শনিবার) কালিয়া থানায় দায়ের করা জিডিতে রূপা খানম অভিযোগ করেন, ইউসুফ মোল্যা ও তার সহযোগীরা তার সন্তানদের ওপর হামলা চালায়। ১৬ মে সন্ধ্যায় তার ১০ বছরের ছেলে রাকিব ও ৫ বছরের মেয়ে মুনিয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জিডিতে অভিযুক্তরা হলেন:
মৃত আছের আলী মোল্যার ছেলে ইউসুফ মোল্যা (৫০), আব্দুর রাজ্জাক শেখের ছেলে মান্নু শেখ (৪৫) ও তার স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৪০), মৃত তবি শেখের ছেলে ইকবাল শেখ (৪৫), কবির শেখের ছেলে আহাদ শেখ (৩৫), এবং মুজি শেখের ছেলে ইউনুস শেখ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য তিনি বুড়িখালী গ্রামে নানা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় ইউসুফ মোল্যা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় নিয়মিত হুমকি দেওয়া হয় এবং গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে তিনি শিশু সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী পেড়লী ইউনিয়নে আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ওই নারীর অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় সে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একটি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, ইউসুফ মোল্যার বিরুদ্ধে মানবপাচার সংক্রান্ত গোপন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।