
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াগাতী (কালিয়া), নড়াইল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নড়াগাতীর পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম টানা বর্ষণে মারাত্মক জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাপাইল, মূলশ্রী, চর মধুপুর, বাগুডাঙ্গা, পহরডাঙ্গা, সরসপুর, পাখিমারা, বল্ল্যাহাটি, ডহর বল্ল্যাহাটি ও কচুয়াডাঙ্গা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এ পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিতভাবে খানা-খন্দর বালু দিয়ে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে পুরনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা—যেমন কালভার্ট ও পাইপলাইন—অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে। টানা বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে রোগবালাই, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফলজ ও বনজ গাছ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের জন্যও তৈরি হয়েছে মারাত্মক সমস্যার পরিবেশ।
যদিও ইউনিয়নের পাশ দিয়ে মধুমতী ও আঠারো বাকি নদী এবং বেশ কয়েকটি খাল প্রবাহিত হয়েছে, তবে এসব জলপথের সঙ্গে পুরনো নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিকল্পনাহীনভাবে এভাবে বালু ও মাটি ভরাট চলতে থাকলে পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন এক সময় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা হয়ে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই। আমরা তাৎক্ষণিক পানি নিষ্কাশনের জন্য দিনরাত প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সচেতন মহলের মতে, পুরনো নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নতুন করে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলেই জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন সম্ভব। এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।