
ওয়াহিদ মুরাদ, স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আতাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে আবালগাতী ও ডোমরা গ্রামের ৮-১০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পাড়ঘেঁষে বসবাসরত দেড় শতাধিক পরিবার এখন রয়েছে সরাসরি ঝুঁকির মুখে। অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে কাটছে তাদের প্রতিটি রাত।
অতিপরিচিত আতাই নদী আজ যেন হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের চোখের জলের কারণ। কৃষি ও দিনমজুরি নির্ভর এসব নিম্নআয়ের পরিবারদের একমাত্র ভরসা ছিল তাদের বসতভিটা ও সামান্য চাষের জমি। কিন্তু হঠাৎ নদীভাঙনে অনেকেই তা হারিয়ে এখন নিঃস্ব। গোলক অধিকারী, শৈলেন বিশ্বাস, মিনতী বিশ্বাস, মহিদুল কাজীসহ একাধিক পরিবার ইতোমধ্যে গৃহহারা হয়েছেন।
ভাঙনের খবর শুনে গতকাল ২৫ মে (রবিবার) বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন, গাজীরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহাগ মুন্সি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
ইউএনও আরিফুল ইসলাম নদী ভাঙনের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের কষ্ট মনোযোগ দিয়ে শোনেন ও সমবেদনা জানান। বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই মুহূর্তে ধৈর্য ধরতে হবে। প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
নদীগর্ভে বিলীন হওয়া শৈলেন বিশ্বাস জানান, “আমার বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ফলজ গাছ, এমনকি পানের বরজও ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এখন যে জায়গায় আছি, সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ।”
অন্যদিকে নদী তীরবর্তী মিতা বিশ্বাস জানান, “আমাদের ছয়টি পরিবার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদীর পাড়েই অস্থায়ী ঘর তুলে থাকছি। আতঙ্কে প্রতিটি রাত কাটে। একমাত্র জীবিকা স্বামীর লোহা থেকে পেরেক বানানো, যা বিক্রি করে সংসার চলে। কিন্তু অন্য কোথাও গিয়ে বসতি গড়ার কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই।”
গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহাগ মুন্সি জানান, আবালগাতী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তরা এখন বাড়িঘরহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।